The Love Song of J. Alfred Prufrock

Let us go then, you and I,
When the evening is spread out against the sky
Like a patient etherized upon a table;
Let us go, through certain half-deserted streets,
The muttering retreats
Of restless nights in one-night cheap hotels
And sawdust restaurants with oyster-shells:
Streets that follow like a tedious argument
Of insidious intent
To lead you to an overwhelming question …
Oh, do not ask, “What is it?”
Let us go and make our visit.
In the room the women come and go
Talking of Michelangelo.
The yellow fog that rubs its back upon the window-panes,
The yellow smoke that rubs its muzzle on the window-panes,
Licked its tongue into the corners of the evening,
Lingered upon the pools that stand in drains,
Let fall upon its back the soot that falls from chimneys,
Slipped by the terrace, made a sudden leap,
And seeing that it was a soft October night,
Curled once about the house, and fell asleep.
And indeed there will be time
For the yellow smoke that slides along the street,
Rubbing its back upon the window-panes;
There will be time, there will be time
To prepare a face to meet the faces that you meet;
There will be time to murder and create,
And time for all the works and days of hands
That lift and drop a question on your plate;
Time for you and time for me,
And time yet for a hundred indecisions,
And for a hundred visions and revisions,
Before the taking of a toast and tea.
In the room the women come and go
Talking of Michelangelo.
And indeed there will be time
To wonder, “Do I dare?” and, “Do I dare?”
Time to turn back and descend the stair,
With a bald spot in the middle of my hair —
(They will say: “How his hair is growing thin!”)
My morning coat, my collar mounting firmly to the chin,
My necktie rich and modest, but asserted by a simple pin —
(They will say: “But how his arms and legs are thin!”)
Do I dare
Disturb the universe?
In a minute there is time
For decisions and revisions which a minute will reverse.
For I have known them all already, known them all:
Have known the evenings, mornings, afternoons,
I have measured out my life with coffee spoons;
I know the voices dying with a dying fall
Beneath the music from a farther room.
               So how should I presume?
And I have known the eyes already, known them all—
The eyes that fix you in a formulated phrase,
And when I am formulated, sprawling on a pin,
When I am pinned and wriggling on the wall,
Then how should I begin
To spit out all the butt-ends of my days and ways?
               And how should I presume?
And I have known the arms already, known them all—
Arms that are braceleted and white and bare
(But in the lamplight, downed with light brown hair!)
Is it perfume from a dress
That makes me so digress?
Arms that lie along a table, or wrap about a shawl.
               And should I then presume?
               And how should I begin?
Shall I say, I have gone at dusk through narrow streets
And watched the smoke that rises from the pipes
Of lonely men in shirt-sleeves, leaning out of windows? …
I should have been a pair of ragged claws
Scuttling across the floors of silent seas.
And the afternoon, the evening, sleeps so peacefully!
Smoothed by long fingers,
Asleep … tired … or it malingers,
Stretched on the floor, here beside you and me.
Should I, after tea and cakes and ices,
Have the strength to force the moment to its crisis?
But though I have wept and fasted, wept and prayed,
Though I have seen my head (grown slightly bald) brought in upon a platter,
I am no prophet — and here’s no great matter;
I have seen the moment of my greatness flicker,
And I have seen the eternal Footman hold my coat, and snicker,
And in short, I was afraid.
And would it have been worth it, after all,
After the cups, the marmalade, the tea,
Among the porcelain, among some talk of you and me,
Would it have been worth while,
To have bitten off the matter with a smile,
To have squeezed the universe into a ball
To roll it towards some overwhelming question,
To say: “I am Lazarus, come from the dead,
Come back to tell you all, I shall tell you all”—
If one, settling a pillow by her head
               Should say: “That is not what I meant at all;
               That is not it, at all.”
And would it have been worth it, after all,
Would it have been worth while,
After the sunsets and the dooryards and the sprinkled streets,
After the novels, after the teacups, after the skirts that trail along the floor—
And this, and so much more?—
It is impossible to say just what I mean!
But as if a magic lantern threw the nerves in patterns on a screen:
Would it have been worth while
If one, settling a pillow or throwing off a shawl,
And turning toward the window, should say:
               “That is not it at all,
               That is not what I meant, at all.”
No! I am not Prince Hamlet, nor was meant to be;
Am an attendant lord, one that will do
To swell a progress, start a scene or two,
Advise the prince; no doubt, an easy tool,
Deferential, glad to be of use,
Politic, cautious, and meticulous;
Full of high sentence, but a bit obtuse;
At times, indeed, almost ridiculous—
Almost, at times, the Fool.
I grow old … I grow old …
I shall wear the bottoms of my trousers rolled.
Shall I part my hair behind?   Do I dare to eat a peach?
I shall wear white flannel trousers, and walk upon the beach.
I have heard the mermaids singing, each to each.
I do not think that they will sing to me.
I have seen them riding seaward on the waves
Combing the white hair of the waves blown back
When the wind blows the water white and black.
We have lingered in the chambers of the sea
By sea-girls wreathed with seaweed red and brown
Till human voices wake us, and we drown.
T.S. Eliot


নক্ষত্রের চলাফেরা ইশারায় চারি দিকে উজ্জ্বল আকাশ;

বাতাসে নীলাভ হয়ে আসে যেন প্রান্তরের ঘাস;

কাঁচপোকা ঘুমিয়েছে — গঙ্গাফড়িং সেও ঘুমে;

আম নিম হিজলের ব্যাপ্তিতে পড়ে আছ তুমি।

‘মাটির অনেক নীচে চলে গেছ? কিংবা দূর আকাশের পারে

তুমি আজ? কোন্ কথা ভাবছ আঁধারে?

ঐ যে ওখানে পায়রা একা ডাকে জামিরের বনে :

মনে হয় তুমি যেন ঐ পাখি — তুমি ছাড়া সময়ের এ উদ্ভাবনে

আমার এমন কাছে — আশ্বিনের এত বড় অকূল আকাশে

আর কাকে পাব এই সহজ গভীর অনায়াসে’ —

বলতেই নিখিলের অন্ধকার দরকারে পাখি গেল উড়ে

প্রকৃতিস্থ প্রকৃতির মতো শব্দে — প্রেম অপ্রেম থেকে দূরে।

জীবনানন্দ দাশ

‘বনলতা সেন’ কাব্যসংগ্রহ, ১৯৪২ খৃষ্টাব্দ


কিনু গোয়ালার গলি।

                   দোতলা বাড়ির

               লোহার-গরাদে-দেওয়া একতলা ঘর

                       পথের ধারেই।

        লোনা-ধরা দেওয়ালেতে মাঝে মাঝে ধসে গেছে বালি,

               মাঝে মাঝে স্যাঁতা-পড়া দাগ।

মার্কিন থানের মার্কা একখানা ছবি

           সিদ্ধিদাতা গণেশের

                   দরজার ‘পরে আঁটা।

           আমি ছাড়া ঘরে থাকে আরেকটা জীব

                   এক ভাড়াতেই,

                       সেটা টিকটিকি।

                   তফাত আমার সঙ্গে এই শুধু,

                       নেই তার অন্নের অভাব।

বেতন পঁচিশ টাকা,

    সদাগরি আপিসের কনিষ্ঠ কেরানি।

        খেতে পাই দত্তদের বাড়ি

               ছেলেকে পড়িয়ে।

        শেয়ালদা ইস্টিশনে যাই,

           সন্ধেটা কাটিয়ে আসি,

        আলো জ্বালাবার দায় বাঁচে।

এঞ্জিনের ধস্‌ ধস্‌,

        বাঁশির আওয়াজ,

           যাত্রীর ব্যস্ততা,


                   সাড়ে দশ বেজে যায়,

           তার পরে ঘরে এসে নিরালা নিঃঝুম অন্ধকার।

ধলেশ্বরীনদীতীরে পিসিদের গ্রাম।

        তাঁর দেওরের মেয়ে,

অভাগার সাথে তার বিবাহের ছিল ঠিকঠাক।

           লগ্ন শুভ, নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া গেল–

        সেই লগ্নে এসেছি পালিয়ে।

    মেয়েটা তো রক্ষে পেলে,

           আমি তথৈবচ।

ঘরেতে এল না সে তো, মনে তার নিত্য আসাযাওয়া–

           পরনে ঢাকাই শাড়ি, কপালে সিঁদুর।

        বর্ষা ঘন ঘোর।

    ট্রামের খরচা বাড়ে,

মাঝে মাঝে মাইনেও কাটা যায়।

           গলিটার কোণে কোণে

        জমে ওঠে পচে ওঠে

               আমের খোসা ও আঁঠি, কাঁঠালের ভূতি,

                          মাছের কান্‌কা,

মরা বেড়ালের ছানা,

        ছাইপাঁশ আরো কত কী যে!

    ছাতার অবস্থাখানা জরিমানা-দেওয়া

               মাইনের মতো,

                   বহু ছিদ্র তার।

           আপিসের সাজ

    গোপীকান্ত গোঁসাইয়ের মনটা যেমন,

               সর্বদাই রসসিক্ত থাকে।

                   বাদলের কালো ছায়া

               স্যাঁৎসেঁতে ঘরটাতে ঢুকে

                   কলে-পড়া জন্তুর মতন

                       মূর্ছায় অসাড়।

    দিন রাত মনে হয়, কোন্‌ আধমরা

জগতের সঙ্গে যেন আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা পড়ে আছি।

    গলির মোড়েই থাকে কান্তবাবু,

        যত্নে-পাট-করা লম্বা চুল,

           বড়ো বড়ো চোখ,

               শৌখিন মেজাজ।

           কর্নেট বাজানো তার শখ।

    মাঝে মাঝে সুর জেগে ওঠে

           এ গলির বীভৎস বাতাসে–

    কখনো গভীর রাতে,

        ভোরবেলা আধো অন্ধকারে,

    কখনো বৈকালে

        ঝিকিমিকি আলোয় ছায়ায়।

    হঠাৎ সন্ধ্যায়

সিন্ধু-বারোয়াঁয় লাগে তান,

        সমস্ত আকাশে বাজে

           অনাদি কালের বিরহবেদনা।

               তখনি মুহূর্তে ধরা পড়ে

                   এ গলিটা ঘোর মিছে,

            দুর্বিষহ, মাতালের প্রলাপের মতো।

                   হঠাৎ খবর পাই মনে

           আকবর বাদশার সঙ্গে

               হরিপদ কেরানির কোনো ভেদ নেই।

                   বাঁশির করুণ ডাক বেয়ে

           ছেঁড়াছাতা রাজছত্র মিলে চলে গেছে

                          এক বৈকুণ্ঠের দিকে।

    এ গান যেখানে সত্য

অনন্ত গোধূলিলগ্নে


           বহি চলে ধলেশ্বরী;

        তীরে তমালের ঘন ছায়া;


        যে আছে অপেক্ষা ক’রে, তার

           পরনে ঢাকাই শাড়ি, কপালে সিঁদুর।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

২৫শে আষাঢ়, ১৩৩৯ বঙ্গাব্দ


আমি       পরানের সাথে খেলিব আজিকে



            সঘন বরষা, গগন আঁধার,

            হেরো বারিধারে কাঁদে চারি ধার,

            ভীষণ রঙ্গে ভবতরঙ্গে

                 ভাসাই ভেলা;

            বাহির হয়েছি স্বপ্ন-শয়ন

                 করিয়া হেলা


ওগো,      পবনে গগনে সাগরে আজিকে

                 কী কল্লোল,

                 দে দোল্‌ দোল্‌।

            পশ্চাৎ হতে হা হা ক’রে হাসি

            মত্ত ঝটিকা ঠেলা দেয় আসি,

            যেন এ লক্ষ যক্ষশিশুর


            আকাশে পাতালে পাগলে মাতালে


                 দে দোল্‌ দোল্‌।

আজি       জাগিয়া উঠিয়া পরান আমার

                 বসিয়া আছে

                 বুকের কাছে।

            থাকিয়া থাকিয়া উঠিছে কাঁপিয়া,

            ধরিছে আমার বক্ষ চাপিয়া,

            নিঠুর নিবিড় বন্ধনসুখে

                 হৃদয় নাচে;

            ত্রাসে উল্লাসে পরান আমার


                 বুকের কাছে।

হায়,      এতকাল আমি রেখেছিনু তারে



            ব্যথা পাছে লাগে– দুখ পাছে জাগে

            নিশিদিন তাই বহু অনুরাগে

            বাসরশয়ন করেছি রচন


            দুয়ার রুধিয়া রেখেছিনু তারে

                 গোপন ঘরে


কত        সোহাগ করেছি চুম্বন করি


                 স্নেহের সাথে।

            শুনায়েছি তারে মাথা রাখি পাশে

            কত প্রিয় নাম মৃদু মধুভাষে,

            গুঞ্জরতান করিয়াছি গান


            যা-কিছু মধুর দিয়েছিনু তার

                 দুখানি হাতে

                 স্নেহের সাথে।

শেষে       সুখের শয়নে শ্রান্ত পরান



            পরশ করিলে জাগে না সে আর,

            কুসুমের হার লাগে গুরুভার,

            ঘুমে জাগরণে মিশি একাকার


            বেদনাবিহীন অসাড় বিরাগ

                 মরমে পশে


ঢালি       মধুরে মধুর বধূরে আমার

                 হারাই বুঝি,

                 পাই নে খুঁজি।

            বাসরের দীপ নিবে নিবে আসে–

            ব্যাকুল নয়নে হেরি চারি পাশে

            শুধু রাশি রাশি শুষ্ক কুসুম

                 হয়েছে পুঁজি।

            অতল স্বপ্নসাগরে ডুবিয়া

                 মরি যে যুঝি

                 কাহারে খুঁজি।

তাই        ভেবেছি আজিকে খেলিতে হইবে

                 নূতন খেলা


            মরণদোলায় ধরি রশিগাছি

            বসিব দুজনে বড়ো কাছাকাছি,

            ঝঞ্ঝা আসিয়া অট্ট হাসিয়া

                 মারিবে ঠেলা

            আমাতে প্রাণেতে খেলিব দুজনে



                 দে দোল্‌ দোল্‌।

                 দে দোল্‌ দোল্‌।

            এ মহাসাগরে তুফান তোল্‌।

            বধূরে আমার পেয়েছি আবার–

                 ভরেছে কোল।

            প্রিয়ারে আমার তুলেছে জাগায়ে


            বক্ষ-শোণিতে উঠেছে আবার

                 কী হিল্লোল!

            ভিতরে বাহিরে জেগেছে আমার

                 কী কল্লোল!

            উড়ে কুন্তল, উড়ে অঞ্চল,

            উড়ে বনমালা বায়ুচঞ্চল,

            বাজে কঙ্কণ বাজে কিঙ্কিণী


                 দে দোল্‌ দোল্‌।

            আয় রে ঝঞ্ঝা, পরান-বধূর

            আবরণরাশি করিয়া দে দূর,

            করি লুণ্ঠন অবগুণ্ঠন-

                 বসন খোল্‌।

                 দে দোল্‌ দোল্‌।

            প্রাণেতে আমাতে মুখোমুখি আজ

            চিনি লব দোঁহে ছাড়ি ভয়-লাজ,

            বক্ষে বক্ষে পরশিব দোঁহে

                 ভাবে বিভোল।

                 দে দোল্‌ দোল্‌।

            স্বপ্ন টুটিয়া বাহিরেছে আজ

                 দুটো পাগল।

                 দে দোল্‌ দোল্‌।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রামপুর বোয়ালিয়া  ১৫ চৈত্র  ১২৯৯ বঙ্গাব্দ


More About People

When people aren’t asking questions

They’re making suggestions

And when they’re not doing one of those

They’re either looking over your shoulder or stepping on your toes

And then as if that weren’t enough to annoy you

They employ you.

Anybody at leisure

Incurs everybody’s displeasure.

It seems to be very irking

To people at work to see other people not working,

So they tell you that work is wonderful medicine,

Just look at Firestone and Ford and Edison,

And they lecture you till they’re out of breath or something

And then if you don’t succumb they starve you to death or something.

All of which results in a nasty quirk:

That if you don’t want to work you have to work to earn enough extra

money so that you won’t have to work.

– Ogden Nash

Fire and Ice

Some say the world will end in fire,
Some say in ice.
From what I’ve tasted of desire
I hold with those who favor fire.
But if it had to perish twice,
I think I know enough of hate
    To say that for destruction ice
Is also great
And would suffice.
Robert Frost
December, 1920

His Last Words

তোমার সৃষ্টির পথ রেখেছ আকীর্ণ করি

বিচিত্র ছলনাজালে,

হে ছলনাময়ী।

মিথ্যা বিশ্বাসের ফাঁদ পেতেছ নিপুণ হাতে

সরল জীবনে।

এই প্রবঞ্চনা দিয়ে মহত্ত্বেরে করেছ চিহ্নিত;

তার তরে রাখ নি গোপন রাত্রি।

তোমার জ্যোতিষ্ক তা’রে

যে-পথ দেখায়

সে যে তার অন্তরের পথ,

সে যে চিরস্বচ্ছ,

সহজ বিশ্বাসে সে যে

করে তা’রে চিরসমুজ্জ্বল।

বাহিরে কুটিল হোক অন্তরে সে ঋজু,

এই নিয়ে তাহার গৌরব।

লোকে তা’রে বলে বিড়ম্বিত।

সত্যেরে সে পায়

আপন আলোকে ধৌত অন্তরে অন্তরে।

কিছুতে পারে না তা’রে প্রবঞ্চিতে,

শেষ পুরস্কার নিয়ে যায় সে যে

আপন ভান্ডারে।

অনায়াসে যে পেরেছে ছলনা সহিতে

সে পায় তোমার হাতে

শান্তির অক্ষয় অধিকার।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
জোড়াসাঁকো। কলকাতা ৩০ জুলাই ১৯৪১ সকাল সাড়ে নয়টা